বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতিসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই আমাদের আইকাও (আইসিএও) অডিট অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই আইসিএওর পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে পরিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অগ্নি দুর্ঘটনার সময় অনুমোদনহীন ড্রোন উড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিমানবন্দর রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এলাকা। তাই বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।
বিমানবন্দরে কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম আরও কমিয়ে আনতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, এয়ারপোর্ট অপারেশনস, সিকিউরিটি, মেডিকেল টিম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সম্মানিত যাত্রীরা। তাদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পান এবং নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে জিরো কম্প্রোমাইজ অন এভিয়েশন সেফটি।
তিনি বলেন, আজকের এই মহড়া আমাদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মহড়া পরবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আরও উন্নত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই যে কোনো দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতিসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই আমাদের আইকাও (আইসিএও) অডিট অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই আইসিএওর পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে পরিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অগ্নি দুর্ঘটনার সময় অনুমোদনহীন ড্রোন উড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিমানবন্দর রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এলাকা। তাই বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।
বিমানবন্দরে কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম আরও কমিয়ে আনতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, এয়ারপোর্ট অপারেশনস, সিকিউরিটি, মেডিকেল টিম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সম্মানিত যাত্রীরা। তাদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পান এবং নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে জিরো কম্প্রোমাইজ অন এভিয়েশন সেফটি।
তিনি বলেন, আজকের এই মহড়া আমাদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মহড়া পরবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আরও উন্নত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই যে কোনো দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন