প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রেলওয়ে খাতের অন্তরালের বাস্তবতা তুলে ধরার সাহসী কণ্ঠ মনিরুজ্জামান মনিরা
নিজেস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশের রেলওয়ে খাত—দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রাচীন ও কৌশলগত একটি স্তম্ভ—দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবস্থাপনা, নীতিগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার বেড়াজালে আবদ্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের নানা অনিয়ম, সংকট ও সম্ভাবনাকে ধারাবাহিকভাবে তথ্যভিত্তিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ দৈনিক সকালের সময়-এর বিশেষ প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মনির-কে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। দৈনিক সকালের সময়-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির সম্পাদক নুর হাকিম আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা ও গুরুত্বঃমনিরুজ্জামান মনির দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে খাতকে কেন্দ্র করে নিয়োগনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ, কর্মচারী ও পোষ্য অধিকার, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর প্রতিবেদনগুলোতে সরকারি নথি, বিধিমালা, পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের তথ্যের সমন্বয়ে একটি বাস্তব ও প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকের পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণে সহায়ক হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, রেলওয়ে নিয়ে যেখানে অধিকাংশ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ঘটনাভিত্তিক খবরেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে মনিরুজ্জামান মনির কাঠামোগত সমস্যা ও নীতিগত ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। এর ফলে রেলওয়ে সংস্কার নিয়ে গণমাধ্যমে একটি নতুন ও গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।সম্পাদকীয় মূল্যায়নঃসম্মাননা প্রদানকালে দৈনিক সকালের সময়-এর সম্পাদক নুর হাকিম বলেন, “মনিরুজ্জামান মনিরের সাংবাদিকতায় তথ্যের গভীরতা, প্রামাণ্যতা ও জনস্বার্থের বিষয়টি সুস্পষ্ট। রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বাস্তবতা তুলে ধরতে সাহস, অধ্যবসায় ও পেশাগত সততা প্রয়োজন—যা তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সম্মাননা গ্রহণে দায়িত্ববোধের প্রকাশঃসম্মাননা গ্রহণ করে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দায়িত্ববোধের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “রেলওয়ে খাত শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। এই খাতের দুর্বলতা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জনসমক্ষে আনা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি ভবিষ্যতেও রেলওয়ে খাতসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাঃঅনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে এই ধারাটি আরও শক্তিশালী করা জরুরি। মনিরুজ্জামান মনিরের মতো সাংবাদিকদের কাজ নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।দশক পূর্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্যঃদৈনিক সকালের সময়-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল পত্রিকাটির পেশাগত অগ্রযাত্রা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকার এবং গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সম্মাননা কেবল ব্যক্তিগত স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক উৎসাহ ও গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত