প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
অতীতে অস্ট্রেলিয়ায় এ কী করেছেন ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত সেই পাইলট! সামনে আসতেই ফের শোরগোল বিশ্বজুড়ো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমান হামলার ঘটনার পর শুরু হয়ে গিয়েছে জোর তদন্ত। এবার অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হামাম আল-হাম্মামিকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে। কারণ, আল-হাম্মামি সে দেশেরই পড়ুয়া ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, ২০১৪ সালে আল-হাম্মামিকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে তিনি সে দেশেই উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন। ২০১৭ সালে পড়াশোনা শেষে তিনি ওই দেশ ছাড়েন। ২০১৯ সালে বাতিল করা হয় তাঁর অস্ট্রেলিয়ান ভিসা। বেশ কয়েকটি অসমর্থিত এবং বর্তমানে অস্তিত্বহীন লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, ওই হত্যাকারী অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তা জানা যায়নি।এখনও পর্যন্ত নানা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আল-হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ান। হাম্মামি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরি ছাড়েন। এরপর মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা 'রয়্যাল এয়ার মারোক'-এ ২০২৫ সালের জুন মাসে যোগ দেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে আসেন। পরবর্তীকালে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীর বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই-এ চাকরির সুযোগ পান।তাঁর পূর্ববর্তী নিয়োগকারী সংস্থা 'রয়্যাল এয়ার মারোক' জানিয়েছে যে, তাঁকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি সংস্থায়। পাশাপাশি, জানা গিয়েছে, তিনি আমেরিকার বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট বা বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা বিষয়েও স্নাতক অর্জন করেছেন। তবে সেক্ষেত্রে দূরশিক্ষা মাধ্যমেই তাঁর ডিগ্রিলাভ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোর্স করলেও সেখান থেকে কোনও পাইলট প্রশিক্ষণে অংশ নেননি তিনি।জানা গিয়েছে, চরমপন্থী মতাদর্শ বিশ্বাসী এই আশঙ্কা থেকেই ওমান কর্তৃপক্ষ এর আগে হামাম আল-হাম্মামির বিমান চালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাঁকে 'ওমান এয়ার'-এর প্রশাসনিক কাজ থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সংস্থার তরফে মনে করা হয়েছিল, যেহেতু তিনি সিরিয়াতে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছিলেন, তাই সেখানকার উগ্রবাদী গোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।যদিও এখনও হাম্মামির অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। তবে ঘটনার দিন বিমান চালনার সময় পর্যন্ত তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সচল ছিল। অন্যদিকে, সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ন'ঘণ্টা পর আল-হাম্মামি লিঙ্কডিনে সন্ত্রাসবাদীদের নিয়েও দু'টি পোস্ট করেছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত