প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
বিক্ষোভ-সহিংসতা থামাতে এক শহরে ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ইতালিা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ লম্বার্ডির মিলান শহরে ৫০০ জন সেনা মোতায়েন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির সরকার।ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সপ্তাহজুড়ে অস্থিরতা চলার পর কর্তৃপক্ষ আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকার ‘রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকার দাঙ্গাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে; সেই সঙ্গে যেসব কিশোর-তরুণ ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেবে, তাদের অভিভাবকদের ওপর আর্থিক দায়ভার চাপানোর কথা জানিয়েছে।মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, “প্রতিবাদ করা একটি অধিকার, কিন্তু শহর ধ্বংস করা নয়। সহিংসতা মোকাবিলা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছি।”সিএনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে সেখানে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ থাকলেও, কিছু গোষ্ঠী দোকানপাটে লুটপাট চালায়, টাউন হলে আগুন দেয় এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে।স্পেন, পর্তুগাল, আলবেনিয়াসহ আরও অনেক দেশে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভের মূলে রয়েছে আবাসন ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জনসেবা খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে জনগণের হতাশা।মিলানে আরও অস্থিরতার আশঙ্কাশনিবার ও রোববারের বিক্ষোভের সময় মুখ ঢেকে রাখা কিছু তরুণ ডাস্টবিনে আগুন দেয়, দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় এবং জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় মিলান পুলিশ ২৭১ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে। শহরের ক্যাথেড্রাল এলাকা এবং বিলাসবহুল কেনাকাটার কেন্দ্রগুলোতে এই সহিংসতার প্রভাব পড়েছে।প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও, পরে কিছু সহিংস গোষ্ঠী তৈরি হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সোমবার পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জন নাবালক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মিলানের ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকান আরও সহিংসতার আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শ্যানেল, টিফানি ও ডিও’র এর মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের দোকানের শোকেস থেকে পণ্য সরিয়ে নিয়েছে। অন্যান্য যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ডেক্যাথলন’ ও ‘আর্কটেরিক্স’ এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ‘ভোডাফোন’।পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি, যিনি একই সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন, বলেছেন যে রাষ্ট্রের ওপর হওয়া এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে সরকার।সোমবার জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেলোনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর তাজানি বলেন, “রাষ্ট্রের ওপর হওয়া এসব হামলার কঠোর জবাব দেবে সরকার; এর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা দমনের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”ইতালীয় সংবাদ সংস্থা ‘আনসা’ জানিয়েছে যে, সরকার অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা তরুণদের—বিশেষ করে যাদের ‘মারানজা’ বলা হয়—তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ‘মারানজা’ শব্দটি মূলত প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা তরুণদের একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অপশব্দ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত