ঢাকা   শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

ছেলের বন্ধুর মৃত্যু বজ্রপাতে, এখন রাস্তার ধারে তাল বীজ লাগাচ্ছেন ছবুর



ছেলের বন্ধুর মৃত্যু বজ্রপাতে, এখন রাস্তার ধারে তাল বীজ লাগাচ্ছেন ছবুর

একটি পড়ন্ত বিকেল। ৭-৮ জন কিশোর-তরুণ। কেউ মাটির গর্ত খুঁড়ছেন, কেউ সে গর্তে তাল বীজ বপন করছেন, কেউ টুকরি করে বীজ বয়ে এনে রাস্তার পাশে রাখছেন। এমন দৃশ্য দেখা গেল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার-বাইন্যার দীঘি সড়কে।

শুধু ওই সড়কই নয়, গত এক বছর ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার ধারে এভাবে তাল বীজ বপন করছেন স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ আবদুল ছবুর। রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার বাসিন্দা ছবুরের চট্টগ্রাম নগরীতে একটি মোটর ওয়ার্কশপ রয়েছে। সারা বছরই বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেন তিনি।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিন বছরে ৩০ হাজারের বেশি তাল বীজ বপনের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।

তাল বীজ বপনের কারণ জানতে চাইলে আবদুল ছবুর বলেন, ‘তারিখটি ছিল ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর। ওই দিন বিকেলে রায়পুর উপকূলের সমুদ্রসৈকতে আমার ছেলে আরিয়ান (বর্তমানে বয়স ১৮) এলাকার অনেক শিশু-কিশোরের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল। হঠাৎ দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে আমি ছেলেকে আনতে যাই। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে আমার ও আমার ছেলের সামনেই তার বন্ধু ফোরকান মারা যায়। ওই ঘটনা এখনো ভুলতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ফোরকানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ট্রমায় ভোগেন। পরে জানতে পারেন, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধে সহায়ক এবং জীবনের ঝুঁকি কমায়। তখনই সিদ্ধান্ত নেন নিজের ইউনিয়নের রাস্তায় রাস্তায় তাল বীজ লাগাবেন।

আবদুল ছবুর বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আড়ত থেকে ১৩ হাজার তাল বীজ কিনে লাগাই। তবে প্রথম বছর বীজ লাগানোর সঠিক নিয়ম না জানায় প্রায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। তাই এ বছর নতুন ও সঠিক নিয়মে বীজ বপন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এ বছর রায়পুর ইউনিয়নে তালগাছের পাশাপাশি ঔষধি গাছও লাগানো হবে। প্রতি বছর অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার বীজ বপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিজের ইউনিয়নের কাজ শেষ করে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও তাল বীজ বপন করবেন। সব খরচ নিজেই বহন করছেন এবং কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে নিজেই বীজ বপন করছেন।

‘প্রথম দিকে অনেকে অনেক কথা বলত। এখন এলাকার তরুণ ও কিশোররাও আমাকে সহায়তা করছে,’ বলেন ছবুর।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। সেক্ষেত্রে আবদুল ছবুরের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকায়, রাস্তার ধারে যত বেশি তালগাছ লাগানো যায়, ততই মঙ্গল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ছেলের বন্ধুর মৃত্যু বজ্রপাতে, এখন রাস্তার ধারে তাল বীজ লাগাচ্ছেন ছবুর

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একটি পড়ন্ত বিকেল। ৭-৮ জন কিশোর-তরুণ। কেউ মাটির গর্ত খুঁড়ছেন, কেউ সে গর্তে তাল বীজ বপন করছেন, কেউ টুকরি করে বীজ বয়ে এনে রাস্তার পাশে রাখছেন। এমন দৃশ্য দেখা গেল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার-বাইন্যার দীঘি সড়কে।

শুধু ওই সড়কই নয়, গত এক বছর ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার ধারে এভাবে তাল বীজ বপন করছেন স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ আবদুল ছবুর। রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার বাসিন্দা ছবুরের চট্টগ্রাম নগরীতে একটি মোটর ওয়ার্কশপ রয়েছে। সারা বছরই বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেন তিনি।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিন বছরে ৩০ হাজারের বেশি তাল বীজ বপনের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।

তাল বীজ বপনের কারণ জানতে চাইলে আবদুল ছবুর বলেন, ‘তারিখটি ছিল ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর। ওই দিন বিকেলে রায়পুর উপকূলের সমুদ্রসৈকতে আমার ছেলে আরিয়ান (বর্তমানে বয়স ১৮) এলাকার অনেক শিশু-কিশোরের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল। হঠাৎ দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে আমি ছেলেকে আনতে যাই। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে আমার ও আমার ছেলের সামনেই তার বন্ধু ফোরকান মারা যায়। ওই ঘটনা এখনো ভুলতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ফোরকানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন ট্রমায় ভোগেন। পরে জানতে পারেন, তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধে সহায়ক এবং জীবনের ঝুঁকি কমায়। তখনই সিদ্ধান্ত নেন নিজের ইউনিয়নের রাস্তায় রাস্তায় তাল বীজ লাগাবেন।

আবদুল ছবুর বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আড়ত থেকে ১৩ হাজার তাল বীজ কিনে লাগাই। তবে প্রথম বছর বীজ লাগানোর সঠিক নিয়ম না জানায় প্রায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। তাই এ বছর নতুন ও সঠিক নিয়মে বীজ বপন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এ বছর রায়পুর ইউনিয়নে তালগাছের পাশাপাশি ঔষধি গাছও লাগানো হবে। প্রতি বছর অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার বীজ বপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিজের ইউনিয়নের কাজ শেষ করে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও তাল বীজ বপন করবেন। সব খরচ নিজেই বহন করছেন এবং কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে নিজেই বীজ বপন করছেন।

‘প্রথম দিকে অনেকে অনেক কথা বলত। এখন এলাকার তরুণ ও কিশোররাও আমাকে সহায়তা করছে,’ বলেন ছবুর।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। সেক্ষেত্রে আবদুল ছবুরের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকায়, রাস্তার ধারে যত বেশি তালগাছ লাগানো যায়, ততই মঙ্গল।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত