সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিতেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। এই অভিযানের খবরে দলে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলে এক ধরনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।
বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির ঘটনার পর দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নেতারা অনেকটাই চুপসে গেছেন। চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিতদের মধ্যে ঢুকে গেছে এক ধরনের ভয়। এদিকে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধ চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে দেশের অপরাধ জগতে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কিংবা সরকারে পদ-পদবি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে পুলিশ প্রশাসনে স্বস্তি এসেছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই বিশ্বাস শুরু হয়েছে যে, রাজনৈতিক কারণে অপকর্মকারীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তাদের কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা সহজ হবে।
স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। তাদের পালানোর পথ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়ায় অপরাধীরা এখন আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিতেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। এই অভিযানের খবরে দলে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলে এক ধরনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।
বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপকর্মকারীদের স্থান হবে শুধু কারাগারে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি। ওই কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কিছু কর্মী পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে খবর নিয়ে জানা গেছে, উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির ঘটনার পর দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নেতারা অনেকটাই চুপসে গেছেন। চাঁদাবাজ হিসাবে পরিচিতদের মধ্যে ঢুকে গেছে এক ধরনের ভয়। এদিকে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধ চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে দেশের অপরাধ জগতে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কিংবা সরকারে পদ-পদবি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে পুলিশ প্রশাসনে স্বস্তি এসেছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই বিশ্বাস শুরু হয়েছে যে, রাজনৈতিক কারণে অপকর্মকারীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তাদের কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের গ্রেফতার করা সহজ হবে।
স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। তাদের পালানোর পথ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়ায় অপরাধীরা এখন আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

আপনার মতামত লিখুন