ঢাকা   মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লোকলজ্জা ভেঙে কথা বলতে হবে : নাজনীন সুলতানা



মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লোকলজ্জা ভেঙে কথা বলতে হবে : নাজনীন সুলতানা

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজনীন সুলতানা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও লোকলজ্জা ভেঙে কথা বলতে হবে। কারও আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তার সঙ্গে কথা বলা এবং পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কারণ, কাছের মানুষের সঙ্গে একটি কথোপকথনও কাউকে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজনীন সুলতানা এসব কথা বলেন। ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

নাজনীন সুলতানা বলেন, অসুস্থতার কথা ভাবলে মানুষ সাধারণত শারীরিক সমস্যাকেই গুরুত্ব দেয়। কোনো রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে যায়, বিভিন্ন পরীক্ষা করায়। কিন্তু পরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা না পড়লে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা রোগীকে জানানো যেতে পারে।

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শরীর ও মন দুটিই সুস্থ না থাকলে একজন মানুষকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যায় না। অথচ সামাজিক লোকলজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চান না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও বড়দের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে নাজনীন সুলতানা বলেন, কোনো শিশু যদি নিজের পরিবারে, এমনকি বাবা বা আত্মীয়ের কাছেও নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো নিয়ে এখন খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

কাছের মানুষের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলে তা উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান, সহকর্মী বা পরিচিত কারও আচরণে পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। তিনি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাচ্ছেন কি না, স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বললে সংকটে থাকা কেউ মানসিকভাবে শক্তি পেতে পারেন, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তা থেকেও ফিরে আসতে পারেন।

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. রুবিনা হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা সুরক্ষা ট্রাস্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিওল আলম চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এএইচএম কাজী মোস্তফা কামাল।

এছাড়া বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপদেষ্টা ডা. মো. এনায়েত করিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মহবুবা সুলতানা এবং হাসপাতালের পরিচালক মেজর ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক (অব.)।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মেজর (অব.) ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. স্বপ্না ভট্টাচার্য, গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রওশন আরা খানম এবং সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আব্দুল মতিন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লোকলজ্জা ভেঙে কথা বলতে হবে : নাজনীন সুলতানা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজনীন সুলতানা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও লোকলজ্জা ভেঙে কথা বলতে হবে। কারও আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তার সঙ্গে কথা বলা এবং পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কারণ, কাছের মানুষের সঙ্গে একটি কথোপকথনও কাউকে আত্মহত্যার চিন্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজনীন সুলতানা এসব কথা বলেন। ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

নাজনীন সুলতানা বলেন, অসুস্থতার কথা ভাবলে মানুষ সাধারণত শারীরিক সমস্যাকেই গুরুত্ব দেয়। কোনো রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে যায়, বিভিন্ন পরীক্ষা করায়। কিন্তু পরীক্ষায় কোনো রোগ ধরা না পড়লে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। প্রয়োজন হলে মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা রোগীকে জানানো যেতে পারে।

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শরীর ও মন দুটিই সুস্থ না থাকলে একজন মানুষকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যায় না। অথচ সামাজিক লোকলজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে চান না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও বড়দের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে নাজনীন সুলতানা বলেন, কোনো শিশু যদি নিজের পরিবারে, এমনকি বাবা বা আত্মীয়ের কাছেও নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো নিয়ে এখন খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।

কাছের মানুষের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলে তা উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান, সহকর্মী বা পরিচিত কারও আচরণে পরিবর্তন এলে তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। তিনি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাচ্ছেন কি না, স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বললে সংকটে থাকা কেউ মানসিকভাবে শক্তি পেতে পারেন, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তা থেকেও ফিরে আসতে পারেন।

ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. রুবিনা হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা সুরক্ষা ট্রাস্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিওল আলম চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এএইচএম কাজী মোস্তফা কামাল।

এছাড়া বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপদেষ্টা ডা. মো. এনায়েত করিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মহবুবা সুলতানা এবং হাসপাতালের পরিচালক মেজর ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক (অব.)।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মেজর (অব.) ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. স্বপ্না ভট্টাচার্য, গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রওশন আরা খানম এবং সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আব্দুল মতিন।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত