গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ ও রেজিস্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি জমির নামজারি ও রেকর্ড হালনাগাদ, শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়েও একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অডিট আপত্তি, মামলা নিষ্পত্তি এবং দাপ্তরিক কাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণী এসব তথ্য জানা গেছে।
সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জমি উদ্ধারের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি ভূমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর হতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জমির তথ্য ছক আকারে পরবর্তী সমন্বয় সভায় দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
সভায় নিষ্কণ্টক জমির গেজেট প্রকাশ, পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ তৈরি এবং অ্যাসেট রেজিস্টার (সম্পদ নিবন্ধন) প্রস্তুতের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার তত্ত্বাবধানে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড ও গণপূর্ত অধিদপ্তর পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ ও রেজিস্টার তৈরি করা হবে।
এছাড়া পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখার উদ্যোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করতে হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখা, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড এবং সিস্টেম অ্যানালিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সব দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের প্রকল্প পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্প পরিদর্শনের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে। পাশাপাশি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা-২-এর যুগ্ম সচিব এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শূন্য পদ পূরণে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা। শূন্য পদ পূরণে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে কোন দপ্তর, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ কতটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সে বিষয়ে পরবর্তী সভায় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার জমির গেজেট প্রকাশ, দখল এবং নামজারির বিষয়ে সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরা অগ্রগতি তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে তাদের মালিকানাধীন জমির নামজারি ও রেকর্ড দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মাসে নামজারি ও রেকর্ড সম্পন্ন হওয়া জমির পরিমাণ উল্লেখ করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছক অনুসরণ করে এ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ও পরবর্তী এক বছরের কর্মসূচির আওতায় অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং দপ্তর ও সংস্থা থেকে পাওয়া জবাব সন্তোষজনক হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সাত দিনের মধ্যে তা পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অডিট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উত্থাপিত অডিট আপত্তির সংখ্যা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উত্থাপিত অডিট আপত্তির সংখ্যা সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী তিন মাসে কমপক্ষে নয়টি ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদপ্তরকে অভ্যন্তরীণ অডিটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
পরবর্তী মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অডিট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, অডিট শাখা-১ ও ২-এর উপসচিব ও সহকারী সচিব এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, অনিষ্পন্ন মামলাগুলোর তথ্য প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় নির্ধারিত ছক অনুযায়ী দিতে হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইনে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নকশা অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় কতটি আবেদন পাওয়া গেছে এবং কতটি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণকসহ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবপোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ ও সময়োপযোগী রাখতে হবে। মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সব সেবা পর্যায়ক্রমে ই-সেবা বা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসন-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং আইসিটি শাখার সিস্টেম অ্যানালিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ই-টেন্ডারিংয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি যথাসময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া গত ছয় মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সমন্বয় সভায় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
সভায় ডি-নথির বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের সব শাখা এবং নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ডাক ডি-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
ডি-নথিতে নথি নিষ্পত্তির কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য শাখা কর্মকর্তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরা সভাকে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, ছয় মাস ও ১২ মাস মেয়াদি বিভাগীয় মামলাগুলোর তথ্য সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ১২ মাসের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলাগুলো পরবর্তী সমন্বয় সভার আগে নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দাপ্তরিক দৈনন্দিন কাজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার সব কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি অধীনস্থ কর্মচারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিতে হবে।
দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ কার্যালয়ে গত তিন মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ইউনিট উল্লেখ করে পরবর্তী সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
এছাড়া সাধারণ শৌচাগার, সম্মেলনকক্ষ এবং অন্যান্য সাধারণ স্থানে ফ্যান, বাতি ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সহায়ক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে।
দাপ্তরিক কাজে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মনোনয়ন দিতে হবে। ওই কর্মকর্তার মাধ্যমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও সমন্বয় করা হবে, সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ ও রেজিস্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি জমির নামজারি ও রেকর্ড হালনাগাদ, শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়েও একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অডিট আপত্তি, মামলা নিষ্পত্তি এবং দাপ্তরিক কাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণী এসব তথ্য জানা গেছে।
সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জমি উদ্ধারের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি ভূমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৎপর হতে হবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জমির তথ্য ছক আকারে পরবর্তী সমন্বয় সভায় দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
সভায় নিষ্কণ্টক জমির গেজেট প্রকাশ, পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ তৈরি এবং অ্যাসেট রেজিস্টার (সম্পদ নিবন্ধন) প্রস্তুতের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার তত্ত্বাবধানে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড ও গণপূর্ত অধিদপ্তর পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ ও রেজিস্টার তৈরি করা হবে।
এছাড়া পরিত্যক্ত সম্পত্তির ডেটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখার উদ্যোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করতে হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখা, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড এবং সিস্টেম অ্যানালিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সব দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের প্রকল্প পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্প পরিদর্শনের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে। পাশাপাশি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা-২-এর যুগ্ম সচিব এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শূন্য পদ পূরণে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা। শূন্য পদ পূরণে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সব শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে কোন দপ্তর, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ কতটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সে বিষয়ে পরবর্তী সভায় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার জমির গেজেট প্রকাশ, দখল এবং নামজারির বিষয়ে সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরা অগ্রগতি তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে তাদের মালিকানাধীন জমির নামজারি ও রেকর্ড দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মাসে নামজারি ও রেকর্ড সম্পন্ন হওয়া জমির পরিমাণ উল্লেখ করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছক অনুসরণ করে এ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ও পরবর্তী এক বছরের কর্মসূচির আওতায় অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং দপ্তর ও সংস্থা থেকে পাওয়া জবাব সন্তোষজনক হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সাত দিনের মধ্যে তা পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অডিট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উত্থাপিত অডিট আপত্তির সংখ্যা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উত্থাপিত অডিট আপত্তির সংখ্যা সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী তিন মাসে কমপক্ষে নয়টি ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদপ্তরকে অভ্যন্তরীণ অডিটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
পরবর্তী মাসের মাসিক সমন্বয় সভায় পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অডিট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, অডিট শাখা-১ ও ২-এর উপসচিব ও সহকারী সচিব এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, অনিষ্পন্ন মামলাগুলোর তথ্য প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় নির্ধারিত ছক অনুযায়ী দিতে হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইনে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নকশা অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় কতটি আবেদন পাওয়া গেছে এবং কতটি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণকসহ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবপোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ ও সময়োপযোগী রাখতে হবে। মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সব সেবা পর্যায়ক্রমে ই-সেবা বা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসন-১ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং আইসিটি শাখার সিস্টেম অ্যানালিস্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় ই-টেন্ডারিংয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ যথাযথভাবে অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি যথাসময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন নিয়মিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া গত ছয় মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সমন্বয় সভায় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
সভায় ডি-নথির বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের সব শাখা এবং নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ডাক ডি-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
ডি-নথিতে নথি নিষ্পত্তির কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য শাখা কর্মকর্তাদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিস ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানেরা সভাকে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, ছয় মাস ও ১২ মাস মেয়াদি বিভাগীয় মামলাগুলোর তথ্য সেপ্টেম্বর মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ১২ মাসের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলাগুলো পরবর্তী সমন্বয় সভার আগে নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দাপ্তরিক দৈনন্দিন কাজে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার সব কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি অধীনস্থ কর্মচারীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিতে হবে।
দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ কার্যালয়ে গত তিন মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ইউনিট উল্লেখ করে পরবর্তী সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
এছাড়া সাধারণ শৌচাগার, সম্মেলনকক্ষ এবং অন্যান্য সাধারণ স্থানে ফ্যান, বাতি ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সহায়ক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে।
দাপ্তরিক কাজে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মনোনয়ন দিতে হবে। ওই কর্মকর্তার মাধ্যমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও সমন্বয় করা হবে, সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন