সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সমন্বিত জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচলের এ আহ্বানে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটি, লাল সবুজ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, ক্লাইমেট কানেক্টস ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।
সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৯০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন এবং আহত ১৪ হাজার ৮১২ জন। একই বছরে অন্য একটি হিসাবে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৪ সালেও পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিআরটিএর হিসাবে ওই বছর নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৮ হাজার ৫৪৩ জন এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ৭ হাজার ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশীয় সরকারি হিসাবের সঙ্গে এ ব্যবধান দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
যুব সংগঠনগুলোর মতে, একটি সমন্বিত সেন্ট্রাল ডাটাবেজে দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন, যানবাহন, সড়কের অবস্থা এবং নিহত ও আহতের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যে বিআরটিএ, পুলিশ, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সমন্বয়, দুর্ঘটনা নথিভুক্তকরণে অভিন্ন মানদণ্ড প্রণয়ন, হতাহত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তাই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে একটি কার্যকর জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত, জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সমন্বিত জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচলের এ আহ্বানে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটি, লাল সবুজ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, ক্লাইমেট কানেক্টস ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।
সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৯০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন এবং আহত ১৪ হাজার ৮১২ জন। একই বছরে অন্য একটি হিসাবে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৪ সালেও পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। বিআরটিএর হিসাবে ওই বছর নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ৮ হাজার ৫৪৩ জন এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ৭ হাজার ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশীয় সরকারি হিসাবের সঙ্গে এ ব্যবধান দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
যুব সংগঠনগুলোর মতে, একটি সমন্বিত সেন্ট্রাল ডাটাবেজে দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন, যানবাহন, সড়কের অবস্থা এবং নিহত ও আহতের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যে বিআরটিএ, পুলিশ, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সমন্বয়, দুর্ঘটনা নথিভুক্তকরণে অভিন্ন মানদণ্ড প্রণয়ন, হতাহত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তাই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে একটি কার্যকর জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত, জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন