ঢাকা   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’



মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা যত ক্ষীণ হচ্ছে, দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ততই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের কখনো অদ্ভুত আখ্যা দিচ্ছেন রিপাবলিকানরা। এ ছাড়া তারা দেখতে আমেরিকান নয় বলেও কটাক্ষ করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তিগত পরিচয় ও জীবনযাপন নিয়ে বিদ্বেষমূলক আক্রমণের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প মূলত নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে ‘পলিটিকস অব ফিয়ার’ বা ভয়ের রাজনীতি শুরু করেছেন। এটি এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে নেতারা ভোটারদের প্রভাবিত করতে, দলীয় আনুগত্য গড়ে তুলতে এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে উদ্বেগ, হুমকি কিংবা কোনো পরিস্থিতিকে সংকট হিসেবে তুলে ধরার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

এরই অংশ হিসেবে মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে তাকে ‘জিহাদি’  আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মঙ্গলবার টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ হিসেবে উপস্থাপন করেন ভ্যান্স। টালারিকো সমকামী—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতুকও করেন তিনি। 

ট্রাম্প দাবি করছেন, টালারিকো নিরামিষভোজী, যা তার ভাষায় মাংসপ্রিয় টেক্সাসের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে টালারিকোকে এখন প্রায়ই মাংসের প্লেট হাতে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে হাইতি ও আফ্রিকার মানুষদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তুলে ধরে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্যও নতুন করে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।

সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে সোমবার কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা তল্লাশি চালানোর পর ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওমরের সাংবিধানিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর একটি’ থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা অবশ্য নতুন নয়। তবে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কখনো হাসতে হাসতে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স। এতে তারা বক্তব্যগুলোকে নির্বাচনী প্রচারের স্বাভাবিক বাগ্যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পান। কিন্তু তাতে কারও বর্ণ, ধর্ম, চেহারা কিংবা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বরং এ ধরনের রাজনীতি রাজনৈতিক বিতর্কের মানকে আরও নিচে নামিয়ে আনে।

বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে তার উসকানিমূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং মিথ্যা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এ বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ট্রাম্প প্রায়ই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আমেরিকার প্রচলিত সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের পেছনেও তার রক্ষণশীল সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে রিপাবলিকানদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের ভোট নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে নির্বাচনী প্রচারে এমন অশুভ প্রবণতা বাড়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা হতে পারে, রিপাবলিকানদের সামনে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার মতো শক্তিশালী বিকল্প বক্তব্যের অভাব রয়েছে।

সিএনএনের বিভিন্ন জরিপের সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। জরিপে দেখা যাচ্ছে, খাদ্য, বাসস্থান, পেট্রল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার সংকট আরও বাড়ার জন্য অধিকাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোকে দায়ী করছেন।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের এমন সব অঙ্গরাজ্যে ছুটে যাওয়া, যেখানে রিপাবলিকানরা আগে নিজেদের জয় নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন ছিলেন না, সেটিও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

মঙ্গলবার টেক্সাসে টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্পের পছন্দের সিনেট প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে থাকা নানা অভিযোগ ও কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নীতিগত প্রশ্নে মোকাবিলা করতে না পারলে তাদের অযোগ্য প্রমাণের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। ট্রাম্পের কাছে মুসলিম প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার কৌশলেরই অংশ। আবদুল আল-সাইয়েদ ও জেমস টালারিকোকে আক্রমণ করে তিনি নিজের দলকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে চাইছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দুই প্রার্থীরই লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। শনিবার টেনেসিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে মোহাম্মদ বলে ডাকি।’ এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন তাকে জানিয়েছে, ওই প্রার্থীর নাম মোহাম্মদ নয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট। আমি তাকে যা খুশি, তা ডাকতে পারি।’

ইসরাইলের বিষয়ে আল-সাইয়েদের অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অনেক মার্কিন ইহুদি, এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদেরও একাংশ এ বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ২০২৩ সালের হামলায় নিহত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং পরবর্তী ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণহানির বিষয়টিও তাদের শোক ও উদ্বেগের কারণ।

কিন্তু আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শব্দটি সাধারণত উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে তাকে গণতন্ত্রবিরোধী এবং আল-কায়েদা বা আইএসের মতো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ভোটারদের মনে ওই প্রার্থীকে সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে ভয় সৃষ্টি করা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আল-সাইয়েদকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করাও তার ব্যক্তিসত্তাকে অবজ্ঞা করার পাশাপাশি মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে অপমান করার শামিল।

বৃহত্তর অর্থে, ট্রাম্প মিশিগানে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এবং তার ধর্মাবলম্বীদের আমেরিকান পরিচয়ের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের এ কৌশল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যনাম ‘হুসেইন’ বারবার ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বিকৃত করার জবাবে আল-সাইয়েদ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভোটারদের বুদ্ধিমত্তাকে অবজ্ঞা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘তিনি জানেন আমার নাম আবদুল। তিনি প্রতিদিনই তা বলেন। কিন্তু তিনি শুধু আমাকে আক্রমণ করছেন না, তিনি আমাদের সবাইকে আক্রমণ করছেন। তিনি আমাদের এতটাই তুচ্ছ মনে করেন যে, আমার নাম ও ধর্ম ব্যবহার করে জ্বালানি পাম্প, মুদি দোকান ও চিকিৎসকের কাছে তার নীতির কারণে মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তা থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারবেন বলে ভাবছেন।’

ইলহান ওমরের প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বহু বছর ধরেই এই কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ চলছে। এবার তিনি এমনভাবে ওমরকে উপস্থাপন করছেন, যেন সোমালিয়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মিনেসোটায় নিয়ে আসছেন ওই প্রতিনিধি।

সোমবার ওহাইওতে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি একটি বিপর্যয়। তিনি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেখানে আইন নেই, পুলিশ নেই, সেনাবাহিনী নেই। সেখানে সবাই শুধু একে অপরকে গুলি করে।’

এরপর তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমাদের শেখাতে চায়, কীভাবে দেশ চালাতে হবে। আমরা এটা মেনে নেব না। তারা কর বাড়ায়, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা ও শিশুযত্নের খরচ বাড়ায়।’

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে সোমালিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে কয়েক হাজার নয়, বরং আরও বেশি সোমালীয় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস অপরাধী অনেক। তবে সোমালীয় নেতাদের বক্তব্য, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা এই সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা অযৌক্তিকভাবে পুরো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া ওমরের বাড়িতে তারা আইন প্রয়োগসংক্রান্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সেগুলোর পক্ষে থাকা প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। ওমর বলেছেন, ট্রাম্প বহু বছর ধরে তাকে অপমান করে আসছেন এবং এখন রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।

ট্রাম্পের সহযোগীরা বারবার তার বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি, ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসের মাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ উদ্যাপনের আয়োজন করেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বেড়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগ করেন, ‘বছরের পর বছর ধরে উগ্র ডেমোক্রেটরা এই প্রেসিডেন্টকে মিথ্যাভাবে বর্ণবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন।’

অনেক রিপাবলিকান ভোটারও এ ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ডেমোক্রেটরাও রক্ষণশীল ও ট্রাম্পের সমর্থকদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ‘ডিপ্লোরেবলস’ বা নিন্দনীয় মানুষ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের কিছু সমর্থক ওই অপমানজনক শব্দকেই যেন গর্বের প্রতীকে পরিণত করেছেন। আবার ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প ও ভ্যান্স এমন একটি প্রবণতাকে আরও জোরালো করছেন, যা নতুন জনতুষ্টিবাদী রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। আর তা হলো, কে প্রকৃত আমেরিকান হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন বলেছিলেন, ছোট শহরের দেশপ্রেমিক ও পরিশ্রমী মানুষেরাই ‘প্রকৃত আমেরিকা’র প্রতিনিধিত্ব করেন। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলোর বাইরের মানুষদের দেশপ্রেম ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রাম্পের রাজনীতিতে যে তীব্র বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটেছে, তার তুলনায় পলিনের সেই বক্তব্য এখন অনেকটাই নিরীহ মনে হয়। ওই বক্তব্যের জন্য তার পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও এখন ইতিহাসের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ‘ভয়ের রাজনীতি’

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা যত ক্ষীণ হচ্ছে, দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ততই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের কখনো অদ্ভুত আখ্যা দিচ্ছেন রিপাবলিকানরা। এ ছাড়া তারা দেখতে আমেরিকান নয় বলেও কটাক্ষ করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তিগত পরিচয় ও জীবনযাপন নিয়ে বিদ্বেষমূলক আক্রমণের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প মূলত নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে ‘পলিটিকস অব ফিয়ার’ বা ভয়ের রাজনীতি শুরু করেছেন। এটি এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে নেতারা ভোটারদের প্রভাবিত করতে, দলীয় আনুগত্য গড়ে তুলতে এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে উদ্বেগ, হুমকি কিংবা কোনো পরিস্থিতিকে সংকট হিসেবে তুলে ধরার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

এরই অংশ হিসেবে মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে তাকে ‘জিহাদি’  আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মঙ্গলবার টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ হিসেবে উপস্থাপন করেন ভ্যান্স। টালারিকো সমকামী—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতুকও করেন তিনি। 

ট্রাম্প দাবি করছেন, টালারিকো নিরামিষভোজী, যা তার ভাষায় মাংসপ্রিয় টেক্সাসের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে টালারিকোকে এখন প্রায়ই মাংসের প্লেট হাতে ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে হাইতি ও আফ্রিকার মানুষদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তুলে ধরে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্যও নতুন করে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।

সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে সোমবার কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা তল্লাশি চালানোর পর ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওমরের সাংবিধানিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্প তাঁকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর একটি’ থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা অবশ্য নতুন নয়। তবে প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে বর্ণবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কখনো হাসতে হাসতে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প ও ভ্যান্স। এতে তারা বক্তব্যগুলোকে নির্বাচনী প্রচারের স্বাভাবিক বাগ্যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পান। কিন্তু তাতে কারও বর্ণ, ধর্ম, চেহারা কিংবা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। বরং এ ধরনের রাজনীতি রাজনৈতিক বিতর্কের মানকে আরও নিচে নামিয়ে আনে।

বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান নিয়ে তার উসকানিমূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং মিথ্যা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এ বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ট্রাম্প প্রায়ই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আমেরিকার প্রচলিত সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের পেছনেও তার রক্ষণশীল সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে রিপাবলিকানদের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের ভোট নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে নির্বাচনী প্রচারে এমন অশুভ প্রবণতা বাড়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা হতে পারে, রিপাবলিকানদের সামনে ভোটারদের কাছে তুলে ধরার মতো শক্তিশালী বিকল্প বক্তব্যের অভাব রয়েছে।

সিএনএনের বিভিন্ন জরিপের সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। জরিপে দেখা যাচ্ছে, খাদ্য, বাসস্থান, পেট্রল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার সংকট আরও বাড়ার জন্য অধিকাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোকে দায়ী করছেন।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের এমন সব অঙ্গরাজ্যে ছুটে যাওয়া, যেখানে রিপাবলিকানরা আগে নিজেদের জয় নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন ছিলেন না, সেটিও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

মঙ্গলবার টেক্সাসে টালারিকোকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিকৃত’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্পের পছন্দের সিনেট প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে থাকা নানা অভিযোগ ও কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নীতিগত প্রশ্নে মোকাবিলা করতে না পারলে তাদের অযোগ্য প্রমাণের চেষ্টা নতুন কিছু নয়। ট্রাম্পের কাছে মুসলিম প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার কৌশলেরই অংশ। আবদুল আল-সাইয়েদ ও জেমস টালারিকোকে আক্রমণ করে তিনি নিজের দলকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে চাইছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দুই প্রার্থীরই লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। শনিবার টেনেসিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে মোহাম্মদ বলে ডাকি।’ এরপর তিনি বলেন, কেউ একজন তাকে জানিয়েছে, ওই প্রার্থীর নাম মোহাম্মদ নয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট। আমি তাকে যা খুশি, তা ডাকতে পারি।’

ইসরাইলের বিষয়ে আল-সাইয়েদের অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনা করার সুযোগ রয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অনেক মার্কিন ইহুদি, এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদেরও একাংশ এ বক্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ২০২৩ সালের হামলায় নিহত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং পরবর্তী ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে নিহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণহানির বিষয়টিও তাদের শোক ও উদ্বেগের কারণ।

কিন্তু আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ বলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শব্দটি সাধারণত উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে তাকে গণতন্ত্রবিরোধী এবং আল-কায়েদা বা আইএসের মতো সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ভোটারদের মনে ওই প্রার্থীকে সন্ত্রাসী ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে ভয় সৃষ্টি করা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আল-সাইয়েদকে ‘মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করাও তার ব্যক্তিসত্তাকে অবজ্ঞা করার পাশাপাশি মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে অপমান করার শামিল।

বৃহত্তর অর্থে, ট্রাম্প মিশিগানে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এবং তার ধর্মাবলম্বীদের আমেরিকান পরিচয়ের সঙ্গে অসংগত হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে তাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের এ কৌশল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যনাম ‘হুসেইন’ বারবার ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টার কথা মনে করিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বিকৃত করার জবাবে আল-সাইয়েদ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভোটারদের বুদ্ধিমত্তাকে অবজ্ঞা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘তিনি জানেন আমার নাম আবদুল। তিনি প্রতিদিনই তা বলেন। কিন্তু তিনি শুধু আমাকে আক্রমণ করছেন না, তিনি আমাদের সবাইকে আক্রমণ করছেন। তিনি আমাদের এতটাই তুচ্ছ মনে করেন যে, আমার নাম ও ধর্ম ব্যবহার করে জ্বালানি পাম্প, মুদি দোকান ও চিকিৎসকের কাছে তার নীতির কারণে মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তা থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারবেন বলে ভাবছেন।’

ইলহান ওমরের প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যেও একই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বহু বছর ধরেই এই কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ চলছে। এবার তিনি এমনভাবে ওমরকে উপস্থাপন করছেন, যেন সোমালিয়ার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মিনেসোটায় নিয়ে আসছেন ওই প্রতিনিধি।

সোমবার ওহাইওতে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি একটি বিপর্যয়। তিনি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেখানে আইন নেই, পুলিশ নেই, সেনাবাহিনী নেই। সেখানে সবাই শুধু একে অপরকে গুলি করে।’

এরপর তিনি বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমাদের শেখাতে চায়, কীভাবে দেশ চালাতে হবে। আমরা এটা মেনে নেব না। তারা কর বাড়ায়, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা ও শিশুযত্নের খরচ বাড়ায়।’

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে সোমালিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে কয়েক হাজার নয়, বরং আরও বেশি সোমালীয় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস অপরাধী অনেক। তবে সোমালীয় নেতাদের বক্তব্য, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা এই সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা অযৌক্তিকভাবে পুরো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া ওমরের বাড়িতে তারা আইন প্রয়োগসংক্রান্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সেগুলোর পক্ষে থাকা প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। ওমর বলেছেন, ট্রাম্প বহু বছর ধরে তাকে অপমান করে আসছেন এবং এখন রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।

ট্রাম্পের সহযোগীরা বারবার তার বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি, ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাসের মাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ উদ্যাপনের আয়োজন করেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বেড়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগ করেন, ‘বছরের পর বছর ধরে উগ্র ডেমোক্রেটরা এই প্রেসিডেন্টকে মিথ্যাভাবে বর্ণবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন।’

অনেক রিপাবলিকান ভোটারও এ ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ডেমোক্রেটরাও রক্ষণশীল ও ট্রাম্পের সমর্থকদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ‘ডিপ্লোরেবলস’ বা নিন্দনীয় মানুষ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কথাও তারা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের কিছু সমর্থক ওই অপমানজনক শব্দকেই যেন গর্বের প্রতীকে পরিণত করেছেন। আবার ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প ও ভ্যান্স এমন একটি প্রবণতাকে আরও জোরালো করছেন, যা নতুন জনতুষ্টিবাদী রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। আর তা হলো, কে প্রকৃত আমেরিকান হিসেবে বিবেচিত হবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারাহ পলিন বলেছিলেন, ছোট শহরের দেশপ্রেমিক ও পরিশ্রমী মানুষেরাই ‘প্রকৃত আমেরিকা’র প্রতিনিধিত্ব করেন। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলোর বাইরের মানুষদের দেশপ্রেম ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রাম্পের রাজনীতিতে যে তীব্র বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটেছে, তার তুলনায় পলিনের সেই বক্তব্য এখন অনেকটাই নিরীহ মনে হয়। ওই বক্তব্যের জন্য তার পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাও এখন ইতিহাসের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে আছে।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত